উসমান

Kurulus Osman 137 Bangla

Kurulus Osman 137 in Bangla

কুরুলুস উসমান পর্ব ১৩৭ বাংলা

আসসালামু আলাইকুম কুরলুস প্রেমী ভাই ও বোনেরা। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা ভলিউম ১৩৬ নিয়ে আলোচনা করব।

১. সোগুতে গুপ্ত হামলা ও ইয়েনিশেহির এর উরহান বে’র ক্ষমতার অধঃপতনঃ আমরা গত ভলিউম ১৩৫ এর শেষ দিকে দেখতে পেয়েছিলাম যে, ছদ্মবেশী আয়হান আগা ও ছদ্মবেশী ফয়সাল বে’র পরিকল্পনায় ছদ্মবেশী হাসান আগার নেতৃত্বে ক্রুসেডার সৈন্য নিয়ে সোগুতে গুপ্ত হামলা করেছিল।

ভলিউম ১৩৬ এ দেখতে পাই যে, আলাউদ্দিন, বালা হাতুন, গঞ্জা খাতুন ও সোগুতে আল্পরা হামলাকারীর বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়ে ছিল। যদিও সোগুতে অনেক শহীদ হয়েছিল, ক্ষতাহত হয়েছিল এবং সম্পদের অনেক ক্ষতি হয়েছিল।

এর ফলে সোগুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এর আগে ইয়েনিশেহিরে গুপ্তহামলা আবার সোগুতে হামলা এসব কিছু উসমান বে’র প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই ইয়াকুপ বে এই হামলাকে উসমান বের ক্ষমতার দূর্বলতাকে দায়ী করেন। এর ফলে ইয়াকুপ বে উসমান বে’র অনুপস্থিতে ইয়েনিশেহির প্রাসাদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নেই। ইয়েনিশেহির প্রাসাদে রান্নাঘর থেকে দেওয়াল প্রতিরক্ষা পর্যন্ত গার্মিয়ান সৈন্যদের হাতে চলে যায়।

২. আলাউদ্দিন বে ও গঞ্জা হাতুনঃ আমরা জানি যে, আলাউদ্দিন বে ও গঞ্জা হাতুনের মধ্যে ভালো একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সোগুতে গুপ্তহামলার সময় আলাউদ্দিন বে ও গঞ্জা হাতুন একে অপরকে লাড়াই করে রক্ষা করেছে। তাদের একে অপরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বুঝা যায় যে, তারা দুজন দুজনের প্রেমে পড়েছে।

গঞ্জা হাতুন সোগুত থেকে ইয়েনিশেহিরে যাওয়ার পর তার মা সাদেত হাতুন জিজ্ঞাসা করেন যে, বালা হাতুন তাকে পছন্দ করেছে কিনা বা তার সাথে ভালো সম্পর্ক হয়েছে কিনা। তার সাদেত হাতুন নির্দেশ দেন যাতে গঞ্জা হাতুন আলাউদ্দিন বে’র প্রতি দূর্বল নাই হয় কিন্তু প্রেমেয় অভিনয় করে আলাউদ্দিন বেকে নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেন। যদিও গঞ্জা হাতুনপর মিথ্যা সম্পর্ক করার ইচ্ছা নেই। কারণ গঞ্জা হাতুন আলাউদ্দিন বেকে পছন্দ করেন এবং ভালোবাসেন।

৩. ক্যাষ্টাল আক্রমণ ও উরহান বে ও মেহমেত বে বন্দিঃ ইয়াকুপ বে ইয়েনিশেহিরের ক্ষমতা তার হাতে নেওয়ার পর উরহান বে ও মেহমেত বে’র সাথে পরামর্শ করেন যে, তারা ক্যাষ্টাল দূর্গে আক্রমণ করে দখল করবে। আর এই যোদ্ধের নেতৃত্ব দিবে মেহমেত বে। যদিও উরহান বে মেহমেত বেকে সেনাপ্রধান হিসাবে মানতে রাজি ছিল না।উসমান বে ইয়াকুপ বে’র প্রতি আনুগত্য অঙ্গীকার করাই উরহান বেকে মেনে নিতে হয়েছিল।

পরের দিন আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেই তারা। আর মেহমেত বে পতাকাবিহীনদের নেতাকে নির্দেশ দেয় যে, ক্যাষ্টালের আক্রমণের সময় উরহান বেকে হত্যা করার জন্য। পরের দিন ক্যাষ্টালের একটি সেনা ঘাটিতে তারা আক্রমণ করে। যদিও সেনাঘাটিটি ছিল একটি ফাঁদ। লড়াই এর এক পর্যায়ে মেহমেত বে ও উরহান বে ক্যাষ্টালের টেকফুরের হাতে বন্দি হয় এবং পতাকাবিহীনদের নেতা উরহান বেকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়।

৪. উরহান বে ও হোলোফেরা: গত ভলিউমে আমারা দেখেছিলাম যে, হোলোফেরা সীমান্তবর্তী বাজারে আসছে। যদিও উরহান বে জানতো না। ঠিক তখনই উরহান বে হোলোফেরার মুখোমুখি হয়ে অনেক কষ্ট পাই এবং তাকে জিজ্ঞাসা করে কেন সীমান্তবর্তী বাজারে এসেছে? কেন মেতমেত বে কে ক্ষমা করে দিচ্ছে? এবং কেন এখানে দোকান খুলেছে?

এদিকে মালহুন হাতুন সব বসতিতে খবর পাঠিয়েছেন, উরহান বে’র জন্য হাতুন খুঁজার জন্য। হোলোফেরা তা শুনে অভিমান করে উরহান বে’র সাথে। উরহান বেও তার ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে এবং সে জানাই যে, তার মা মালহুন হাতুন হাতুন খুঁজলেও তার মনে হোলোফেরা রয়েছে।

৫. মঙ্গল কমান্ডার আকজাসোনকে হত্যা ও মঙ্গলদের বিরুদ্ধে যোদ্ধ ঘোষনাঃ আমার গত ভলিউমে দেখেছি যে, উসমান বে ৭০,০০০ হাজার দিরহাম কর নিয়ে মঙ্গল কমান্ডার আকজালাসোনের কাছে যায়ই। কিন্তু আকজালাসোন উাসমান বেকে হত্যা করার জন্য আক্রমণ করেন। আক্রমনের এক পর্যায়ে উসমান বে পিছু হটে এবং এক গুহাই আশ্রয় নেন। আর মঙ্গল সৈন্যরা উসমান বেকে অনুসরণ করে গুহায় আক্রমণ করে।

উসমান বে ও তার আল্পরা তা প্রতিহত করেন। তারপর উসমান বে’র পরিকল্পনা অনুযায়ী আল্পরা মঙ্গলদের পোশাক পরে এবং উসমান বেকে মৃত হিসাবে মঙ্গল কমান্ডার আকজাসোনের ঘাটিতে যায়। উসমান বে’র আল্প ছদ্মবেশী মঙ্গল সৈন্য জানাি যে তারা উসমান বেকে হত্যা করে তার মৃতদেহ নিয়ে আসছে।আর মঙ্গল কমান্ডার আকজালাসোন উসমান মৃতদেহ দেখতে আসার পর মুহুর্তের মধ্যে উসমান বে আকজালাসোনকে হত্যা করে।

তারপর সকল মঙ্গল সৈন্যদের হত্যা করেন। এদিকে ইয়াকুপ বে উসমান বে’র অনুপস্তিতে ইয়েনিশেহির প্রাসাদে মহাসভাই আনাতোলিয়ার সকল বে-দের আমন্ত্রণ জানায় ক্রুসেডাদের সাথে যোদ্ধ ঘোষনা করার জন্য এবং বোরশা ও ইজনিক জয় করার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। সকল বেগন আসেন দিওয়ান ও শুরু হয়। ঠিক তখনই উসমান বে মঙ্গল কমান্ডার আকজালাসোন এর মাথা নিয়ে ইয়েনিশেহির প্রাসাদে আসেন।

এসে দেখতে পান উসমান বে অনুপস্তিতে তারা যোদ্ধ পরিকল্পনা করছে। যদিও উসমান বে মঙ্গল কমান্ডার হত্যা করার মধ্যে দিয়ে মঙ্গলদের ইলখানিদ রাজ্যের বিরুদ্ধে যোদ্ধ ঘোষনা করে দিয়েছে।এর মাঝেই খবর আসে উরহান বে ও মেহমেত বে ক্যাষ্টাল দূর্গের টেকফুরের হাতে বন্দি হয়েছে। Read more

Related Articles

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button